Leaderboard

Login to view leaderboard.

KA
Kalki Avatar3 months ago

Title

*প্রশ্ন—‍আপনি স্বাধীন জীবিকার উপর জোর দেন, কিন্তু যার জমি নেই, মূলধন নেই, যোগ্যতা নেই সে স্বাধীনভাবে জীবিকা অর্জন করবে কি ভাবে?* শ্রীশ্রীঠাকুর—‍মানুষের জমি না থাক, মূলধন না থাক, বড় রকমের যোগ্যতা না থাক, তাতে কিছু এসে যায় না, চাই চরিত্র ও অনুসন্ধিৎসাদীপ্ত সেবাবুদ্ধি। তা' থাকলে মানুষ কিসের মধ্য দিয়ে যে কি ক'রে ফেলে তার ঠিক আছে? একজনের কথা শুনেছিলাম। তার কিছু ছিল না। সে একটা ষ্টেশনের কাছে থাকত। সকালবেলায় বড় এক বালতি জল আর মগ নিয়ে ষ্টেশনে যেত, দাঁতন আর ঘুটের ছাই না কি যেন সঙ্গে নিত। সবার মুখ ধোবার ব্যবস্থা ক'রে দিত আর তার জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে একটা ক'রে পয়সা নিত। এই থেকে শুরু ক'রে নিজের সততাযুক্ত চেষ্টার ফলে সে পরে বড় ব্যবসাদার হ'য়ে গেল। বহু টাকার মালিক হয়েছিল সে। অল্পের উপর দাঁড়িয়ে উন্নতি করার হাজারো রকমের পথ সবসময়ই খোলা আছে। ভাবলে তো মানুষ পথ পাবে। অন্যের সুখ-সুবিধা ক'রে দেবার, প্রয়োজন-পূরণ করবার ক্ষুধা যাদের মজ্জাগত নয়, তারা ভাবেও না, করেও না, পথও পায় না। আর, যোগ্যতার কথা যে বলছ, তা' কাজ করতে করতে বাড়ে। তবে যার জন্মগত knack (ভাললাগা) ও inclination (ঝোঁক) যে-দিকে তার সেই পথে চেষ্টা করাই ভাল। (আলোচনা প্রসঙ্গে দশম খন্ড ২৭.১.১৯৪৮)
Title
KA
Kalki Avatar3 months ago

স্বাধীন জীবিকা

*প্রশ্ন—‍আপনি স্বাধীন জীবিকার উপর জোর দেন, কিন্তু যার জমি নেই, মূলধন নেই, যোগ্যতা নেই সে স্বাধীনভাবে জীবিকা অর্জন করবে কি ভাবে?* শ্রীশ্রীঠাকুর—‍মানুষের জমি না থাক, মূলধন না থাক, বড় রকমের যোগ্যতা না থাক, তাতে কিছু এসে যায় না, চাই চরিত্র ও অনুসন্ধিৎসাদীপ্ত সেবাবুদ্ধি। তা' থাকলে মানুষ কিসের মধ্য দিয়ে যে কি ক'রে ফেলে তার ঠিক আছে? একজনের কথা শুনেছিলাম। তার কিছু ছিল না। সে একটা ষ্টেশনের কাছে থাকত। সকালবেলায় বড় এক বালতি জল আর মগ নিয়ে ষ্টেশনে যেত, দাঁতন আর ঘুটের ছাই না কি যেন সঙ্গে নিত। সবার মুখ ধোবার ব্যবস্থা ক'রে দিত আর তার জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে একটা ক'রে পয়সা নিত। এই থেকে শুরু ক'রে নিজের সততাযুক্ত চেষ্টার ফলে সে পরে বড় ব্যবসাদার হ'য়ে গেল। বহু টাকার মালিক হয়েছিল সে। অল্পের উপর দাঁড়িয়ে উন্নতি করার হাজারো রকমের পথ সবসময়ই খোলা আছে। ভাবলে তো মানুষ পথ পাবে। অন্যের সুখ-সুবিধা ক'রে দেবার, প্রয়োজন-পূরণ করবার ক্ষুধা যাদের মজ্জাগত নয়, তারা ভাবেও না, করেও না, পথও পায় না। আর, যোগ্যতার কথা যে বলছ, তা' কাজ করতে করতে বাড়ে। তবে যার জন্মগত knack (ভাললাগা) ও inclination (ঝোঁক) যে-দিকে তার সেই পথে চেষ্টা করাই ভাল। (আলোচনা প্রসঙ্গে দশম খন্ড ২৭.১.১৯৪৮)
স্বাধীন জীবিকা
KA
Kalki Avatar3 months ago

গুরু যখন চোর....."অচ্যুত ভব"

*নামে vital change (জীবনীয় পরিবর্তন) আনে। কিন্তু চরিত্রের পরিবর্তন আনে কি?* শ্রীশ্রীঠাকুর— Mechanically (যান্ত্রিক ভাবে) কিছু আনেই। তবে শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক এই তিন রকমের সদাচার ছাড়া উচ্চতর চেতনার flow (প্রবাহ) হয় না। তিন রকমের সদাচার যদি সমতলে পালন ক'রে চলা যায় তাহ'লে অবশ্যই চারিত্রিক পরিবর্তন এসে যায়। এই সব নিয়ে যদি বেশি কচকচি করতে যান, তাহলে মুশকিল। তরতরে ভাব নিয়ে যা' করার তা' ক'রে যেতে হয়, তাতে যা' হওয়ার আপনিই হয়। এক গুরু গিয়েছিলেন শীষ্যবাড়ি। সে-গুরু হ'ল চোর, তার কোন চরিত্রগত সম্পদ ছিল না। কিন্তু শিষ্যের ছিল তার প্রতি অগাধ ভক্তি। সেই শিষ্যের একটি ছেলে মারা গেল, সে তখন ভক্তিভরে গুরুর পা ধোয়ানো জল ছিটিয়ে তাকে বাঁচিয়ে তুলল। গুরু তখন ভাবল আমি তো তাহ'লে হ'য়ে গেছি একজন। এই ভেবে আর-এক শীষ্যবাড়ি গিয়ে তার ছেলেকে গলা টিপে মেরে ফেলে, তার হার না কি জানি চুরি করেছে। তখন ধ'রে ফেলে তাকে তো সবাই বেদম প্রহার। সে তখন নিজের পা ধুয়ে ছেলেটার গায়ে কেবল ছেটায়। কিন্তু কোন ফলই ফলে না। তখন তাকে ধ'রে আরও মার, তার প্রাণ তো ওষ্ঠাগত। পূর্বের শীষ্য সেই খবর পেয়ে সেখানে এসে হাজির হ'ল। সে গুরুর এই অবস্থা দেখে ভগবানের নাম নিয়ে গভীর বিশ্বাসে গুরুর পাদোদক সংগ্রহ ক'রে সেই মরা ছেলের গায়ে ছিটিয়ে দিতেই সে বেঁচে উঠল। গুরু তখন বুঝল মূলে clue (রহস্য)-টি কি। তার ভুল ভেঙ্গে গেল, সে চুরি ছেড়ে দিল। তার গুরুর নির্দেশ মত নিষ্ঠা সহকারে সাধন-ভজন শুরু ক'রে দিল। এমনি ক'রে আস্তে-আস্তে সে প্রকৃত সাধু হ'য়ে উঠল। *তাই বলি মূল হ'ল ইষ্টানুরাগ, গুরুভক্তি। গোড়ায় গোল থাকলে যতই শক্তিলাভ হোক বা না হোক কিছুতেই কিছু হবে না।* *তুমি যতই প্রেমবন্ত হবে ততই প্রাণবন্ত হবে। তখন তোমার যাজন, সেবা, বাক্, কর্ম ততই প্রাণবন্ত হ'য়ে উঠবে চরিত্রে।* তাই কেষ্ট ঠাকুরকে তাঁর গুরু আশীর্বাদ করেছিল— "অচ্যুত ভব"। (আলোচনা প্রসঙ্গে,১২ খন্ড,০৭/০৭/১৯৪৮)
গুরু যখন চোর....."অচ্যুত ভব"
KA
Kalki Avatar4 months ago

সম্ভবামি যুগে যুগে

“ধর্ম্ম মানে বাঁচাবাড়ার বিজ্ঞান। যে-কোন মহাপুরুষই তার প্রবক্তা হউন না কেন, তাতে ধর্ম্মের কোন পরিবর্তন হয় না; ধর্ম্ম চিরকালই এক। হিন্দুর ধর্ম্ম যা, মুসলমানের ধর্ম্মও তাই; প্রত্যেক ধর্মমতের লোকই ঈশ্বরপন্থী। আর, সেই ঈশ্বর একজন ছাড়া দুইজন নন। তাঁর প্রেরিত বাণীবাহক যাঁরা, তাঁরাও একই সত্যের উদ্গাতা---একই পথের পথিক---নানা কলেবরে একই সত্তা। তাই ধর্ম্ম মানুষকে মিলিত ছাড়া বিচ্ছিন্ন করে না। ধর্ম্মের থেকে চ্যুত হলেই সম্প্রদায়ে-সম্প্রদায়ে বিভেদ-বিরোধের সৃষ্টি হয়। হিন্দু যদি প্রকৃত হিন্দু হয়, মুসলমান যদি প্রকৃত মুসলমান হয়, তারা বান্ধববন্ধনে আবদ্ধ হতে বাধ্য; বাপকে যে ভালবাসে, সে কখনও ভাইয়ের প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ হতে পারে না। প্রত্যেক সম্প্রদায়ের উপাস্যই এক ও অদ্বিতীয়; তাই সম্প্রদায়গুলি ভাই-ভাই ছাড়া আর কি? মানুষের সহজ বুদ্ধিতে সবই ধরা পড়ে; গোলমাল করে দূরভিসন্ধিপ্রসূত অপব্যাখ্যা ও অপযাজন। ধর্ম্ম যদি বিপন্ন হয়ে থাকে, তবে সবচাইতে বেশী বিপন্ন হয়েছে, এমনতর অপযাজকদের হাতে। প্রত্যেক ধর্ম্মমতের আসল রূপটি তুলে ধরতে হবে সাধারণ লোকের কাছে; তাহলে দুষ্টলোকের জারীজুরি খাটবে না। হিন্দুর যেমন হিন্দুত্বের বিকৃতি বরদাস্ত করা উচিত নয়, তেমনি উচিত নয় ইসলামের বিকৃতি বরদাস্ত করা। মুসলমানেরও তেমনি উচিত নয় ইসলাম ও হিন্দুত্বের আদর্শকে ক্ষুণ্ণ হতে দেওয়া। কোন ধর্ম্মাদর্শকে ক্ষুণ্ণ হতে দেওয়া মানে শয়তানের সাগরেদি করা। আমাদের নিজেদের যেমন ধর্ম্মপরায়ণ হয়ে উঠতে হবে---পরিবেশকেও তেমনি ধর্ম্মপরায়ণ করে তুলতে হবে---প্রত্যেককে তার বৈশিষ্ট্য ও ধর্ম্মাদর্শ অনুযায়ী। হিন্দু যেমন গীতা পড়বে, তেমনি কোরাণ-বাইবেলও পড়বে; মুসলমান যেমন কোরাণ পড়বে, তেমনি গীতা বাইবেলও পড়বে। প্রত্যকে চেষ্টা করবে বাস্তব আচরণে স্বধর্মনিষ্ঠ হতে এবং অন্যকেও সাহায্য করবে ও প্রেরণা জোগাবে অমনতর হয়ে উঠতে। এমনতর হতে থাকলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্দ্য গড়ে তুলতে কদিন লাগে? আমি তো বুঝি, হিন্দুত্বের প্রতিষ্ঠা যেমন আমার দায়, ইসলাম ও খ্রীষ্টধর্ম প্রভৃতির প্রতিষ্ঠাও তেমনি আমারই দায়। আমার পরিবেশের প্রত্যেকে তার মত করে যদি ঈশ্বরপরায়ণ না হয়ে ওঠে, আদর্শপ্রেমী না হয়ে ওঠে, ধর্ম্মনিষ্ঠ না হয়ে ওঠে, তাহলে তো আমারই সমূহ বিপদ। পরিবেশকে বাদ দিয়ে আমার ধর্ম্ম করা অর্থাৎ বাঁচাবাড়ার পথে চলা তো সম্ভব নয়।” ━━━━━━━━━━━━━━━━ 📖 উৎসঃ আলোচনা প্রসঙ্গে নবম খন্ড /২. ১০. ১৯৪৭ ✿━━━━━━━━━━━━━━━✿
সম্ভবামি যুগে যুগে
KA
Kalki Avatar10 months ago

Test

ভাল যে, তাকে তো সবাই ভালবাসতে পারে, মন্দ যে, তাকে ক'জন ভালবাসতে পারে? এই ভালবাসা পেয়ে আবার দেখা যায়, কতজনের জীবন বদলে যায়।...... ছেলেটা যদি বেয়াড়া হয়, তাহ'লে কি তাকে তাড়িয়ে দিতে হবে নাকি? তাহ'লে সে দাঁড়াবে কোথায়? কোন আশ্বাসে, কিসের আশায় নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে চেষ্টা করবে? ভালবাসাই তো মানুষকে বাঁচায়, ভালবাসাই তো মানুষকে ফেরায়। সংসারে যদি তার অনটন প'ড়ে যায়, তবে সংসার চলবে কি ক'রে?

 

(আলোচনা-প্রসঙ্গে ৫ম খণ্ড, পৃঃ-১৪৮)

তোমার নজর যদি অন্যের কেবল কু-ই দেখে, তবে তুমি কখনই কাউকে ভালবাসতে পারবে না। আর, যে সং দেখতে পারে না সে কখনই সৎ হয় না।

(সত্যানুসরণ)

Test
KA
Kalki Avatar2 years ago

পুরুষোত্তম্ জননী মাতা মনোমোহিনী দেবীর ১৫৫তম শুভ আবির্ভাব মহা-মহোৎসব

পুরুষোত্তম্ জননী  মাতা মনোমোহিনী দেবীর ১৫৫তম শুভ আবির্ভাব মহা-মহোৎসব